দুনিয়াকে আমরা কীভাবে বুঝি
কিছু ভাবনা: আমাদের বিশ্বাস কেন আসলে একটা ছোট্ট নমুনা থেকে করা আন্দাজ, ঘটনাকে আমরা যেভাবে দেখি তা কেমন করে আমাদের মন আর কাজকে গড়ে দেয়, আর আজকের দিনে কেন সুযোগ আগের চেয়ে বেশি।
দুনিয়াটাকে আমরা কীভাবে বুঝি, কীভাবে তার মানে করি — তা নিয়ে কিছু ভাবনা।
1. দুনিয়া নিয়ে আমরা যা বিশ্বাস করি, তা শুধু একটা স্ট্যাটিস্টিক (নমুনা থেকে করা আন্দাজ) — আসল প্যারামিটার (প্রকৃত মান) নয়
দুনিয়া আসলে যেভাবে চলে, সেটাই প্যারামিটার — পুরোপুরি জানা খুব কঠিন, প্রায় অসম্ভবই বলা যায়। আর দুনিয়া কীভাবে চলে বলে আমরা বুঝি, সেটা নিছক একটা স্ট্যাটিস্টিক — দুনিয়ার যেটুকু আমরা নিজের চোখে দেখেছি, সেই সামান্য নমুনা থেকে করা একটা আন্দাজ। আমাদের বেশিরভাগের বিশ্বাস তৈরি হয় লোকের মুখে শোনা গল্প, নিজের অভিজ্ঞতা, আর চারপাশের হাতে-গোনা কয়েকজন মানুষকে দেখে। দুনিয়া কত বিশাল, সেই তুলনায় আমাদের নমুনাটা নেহাতই ছোট্ট।
তাই নিজের জীবন থেকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, সেটা গোটা দুনিয়ার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার আগে একটু সাবধান হওয়া দরকার। আমরা আজ যতটা কল্পনা করতে পারি, দুনিয়া হয়তো তার চেয়ে ঢের বেশি রকমভাবে চলে। যা কিছু সম্ভব, তার সামান্য একটা ভগ্নাংশই আমরা জীবনে দেখেছি।
2. দুনিয়াকে আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করি, তা-ই ঠিক করে দেয় দুনিয়া নিয়ে আমাদের মনে কী অনুভূতি জাগবে
বাস্তব নিজে নিরপেক্ষ; কিন্তু আমরা সেটাকে কীভাবে দেখি, তার কী মানে করি — তা-ই ঠিক করে দেয় সেই বাস্তব নিয়ে আমাদের মনে কী অনুভূতি জাগবে। একই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েও দুজন মানুষের মনে সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি হতে পারে, কারণ দুজনে ব্যাপারটাকে দুভাবে দেখেন।
আমরা যেভাবে দেখি, তাতে আমাদের অনুভূতি বদলায়; আর অনুভূতি যেমন হয়, তেমনই হয় আমাদের পরের কাজ। এভাবে একটা শিকল তৈরি হয়:
আমাদের ব্যাখ্যা → আমাদের অনুভূতি → আমাদের কাজ → আমাদের ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতা।
আমাদের সঙ্গে কী ঘটবে, তা হয়তো সবসময় আমাদের হাতে থাকে না; কিন্তু ঘটনাটাকে কীভাবে দেখব, তার ওপর খানিকটা হাত আমাদের আছেই। তাই নিজের ব্যাখ্যাটা ভেবেচিন্তে বেছে নিন।
3. দুনিয়া আগের চেয়ে ভালো জায়গা, বিশেষ করে কেরিয়ারের ব্যাপারে
আমার বিশ্বাস, কয়েক দশক বা কয়েকশো বছর আগের তুলনায় আজকের দুনিয়ায় সুযোগ অনেক অনেক বেশি। কেরিয়ারের দিক থেকে কথাটা আরও বেশি করে সত্যি।
ভারতেও আমার মনে হয়, 20, 30 বা 50 বছর আগের চেয়ে এখন মেধার কদর বেশি, যোগ্যতার জোরে এগিয়ে যাওয়াকে মানুষ এখন বেশি সম্মান করে। সুযোগ সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না, আর যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা এখনও নিখুঁত হওয়া থেকে অনেক দূরে। তবু আজ যে সম্ভাবনাগুলো খুলে গেছে, সেগুলোকে স্বীকার করা দরকার।
চারপাশে যে বাধাগুলোর মুখোমুখি হই, বা আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা দিয়ে, গোটা দুনিয়াকে বিচার করা আমাদের উচিত নয়।
ধন্যবাদ।
